করোনা নামক মহামারী ২
সোশ্যাল ডিসটেন্স , স্যানিটাইজার, বাড়িতে থাকা, রেশন মজুত করা কথাগুলি ভীষণ ভাবে নিষ্ঠূর বলে মনে হচ্ছে দিল্লীতে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার তাড়না দেখে, পরিশ্রমী শ্রমিকদের ভিখারীতে পরিবর্তিত হতে দেখে, তাদের ২০০-৩০০ কিলোমিটার পথ চলা দেখে, তাদের হাজারে হাজারে একত্রিত হতে দেখে, গাদাগাদি করে একে অপরের ওপর চেপে কোনো রকমে বাড়ি ফেরার চেষ্টা দেখে, শুধু এই নিরাপত্তার আশায়, যে গ্রামে ফিরলে অন্তত না খেয়ে মরবো না! প্রচন্ড অসহায় না হলে এই করোনা দানবের চোখ শাসানি উপেক্ষা করা নিতান্তই অসম্ভব, যদি কতিপয় গাড়লগুলোর কথা ছেড়ে দেই যারা 'আমার কিছু হবে না' মার্কা মনোভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে! না, শুধুমাত্র ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয় এই অব্যবস্থাপনার জন্য, আরো বেশি, অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। স্পষ্টতই, আমাদের নীতি নির্ধারণকারীদের কোনো ধারণাই নেই সিংহভাগ ভারতবাসী সম্পর্কে, তাদের অর্থনেতিক অবস্থা সম্পর্কে, তাদের নিরাপত্তাবোধ সম্পর্কে। সম্ভবত ভোটের আগে এই মানুষ গুলো এক একটা নম্বর হিসেবে গুরুত্ব পায়, তারপরই হারিয়ে যায় পরের পাঁচ বছরের জন্য। যেই অর্থনৈতিক প্যাকেজ, ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার, বিনামূল্যে শস্যদানা বিতরণের কথা আজ হচ্ছে, বছর ভর এই নীতি থাকলে হয়তো আজ এত সঙ্গীন অবস্থা হতো না। সময় হয়তো এসেছে, আমরা চুঁইয়ে পরা অর্থনীতিকে এবার একটু সমালোচনা করি, সাম্যের কথা আরেকটু ভাবি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের জন্য আরেকটু বেশি দাবি করি। হয়তো একটু বেশিই সরলীকরণ হলো, হয়তো এতো সহজও নয়, তবে কোথাও না কোথাও তো শুরু করতেই হবে।